নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবার, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১, আহত ১১

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় বিমানবন্দরের একটি যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে আরেকটি ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের পাশাপাশি পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হুথি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের ভেতরে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির সব বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব দিতেই এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর যাত্রী হলে যে আগুন লাগে, তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পর উপসাগরীয় কোনো দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্দান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও হামলায় এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবনে এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি এবং বিবিসিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুলাইয়ে ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে নতুন করে সহিংসতা বেড়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা ও দেশটির মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন