বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবার, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সিডনির অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে সিরিজ বন্ধ করে ঘর ছাড়েন বাবা ও দাদা

হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনির অভিনীত জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ দেখতে বসেছিলেন তার বাবা ও দাদা। কিন্তু পর্দায় তাকে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখার পর অস্বস্তিতে পড়ে সিরিজ বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান তারা। ২০২৩ সালে এনবিসির ‘সানডে টুডে উইথ উইলি গাইস্ট’ অনুষ্ঠানে পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে সিডনি সুইনির অভিনীত ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রটির গল্পজুড়ে রয়েছে প্রেম, যৌনতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক টানাপোড়েন। চরিত্রের প্রয়োজনে সিরিজটিতে তাকে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে।

সিরিজটি দেখার আগে পরিবারের সবাইকে এসব দৃশ্যের বিষয়ে জানাননি সিডনি। তার মা অবশ্য আগে থেকেই বিষয়টি জানতেন। তিনি কয়েকবার শুটিং সেটে গিয়েছিলেন এবং মেয়ের চরিত্র ও গল্প নিয়েও কথা হয়েছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু বাবাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি অভিনেত্রী।

সিডনি জানান, বাবার সঙ্গে সাধারণত নিজের অভিনয়ের কাজ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হতো না। তাই ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে তার চরিত্রের বিষয়বস্তু কীভাবে বাবাকে বোঝাবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই একদিন তার বাবা-মা ও দাদা একসঙ্গে বসে সিরিজটি দেখতে শুরু করেন। কিন্তু পর্দায় সিডনিকে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখার পর তার বাবা ও দাদা আর দেখতে পারেননি। তারা সিরিজ বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

২০২৩ সালের সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন সিডনি। তবে পরিবারের সব সদস্যের প্রতিক্রিয়া এক রকম ছিল না। নিজের দাদির কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, তিনি বরং তার কাজের বড় ভক্ত ছিলেন। বিভিন্ন দেশে শুটিংয়ে গেলে অনেক সময় দাদিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন সিডনি। কোনো কোনো প্রকল্পে দাদিকে অতিরিক্ত চরিত্র হিসেবে ক্যামেরার সামনে আনার চেষ্টাও করতেন তিনি।

পরিবারের সামনে সিরিজটি দেখার অস্বস্তির বাইরেও ‘ইউফোরিয়া’ নিয়ে সিডনিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সিরিজটি জনপ্রিয় হওয়ার পর তার চরিত্রের নগ্নদৃশ্যের স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এমনকি এসব ছবির সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও ট্যাগ করা হয়।

২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে সিডনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে আমার চরিত্রের দৃশ্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কষ্ট দিয়েছিল। ছোট ভাইয়ের অ্যাকাউন্টেও এসব পোস্টের ট্যাগ পৌঁছায়। আমাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে, যা আমার জন্য অসম্মানজনক ও কষ্টদায়ক।’

অভিনেত্রীর ভাষ্য, পর্দায় অভিনীত চরিত্র আর বাস্তব জীবনের মানুষ এক নয়। কিন্তু তার অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার কারণে তার অভিনয় নিয়ে আলোচনার বদলে নগ্নদৃশ্যই অনেকের মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

২০২২ সালে ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিডনি আরও বলেছিলেন, অভিনয় নিয়ে তিনি গর্বিত। কিন্তু নগ্নদৃশ্যের কারণে অনেকে তার অভিনয়ের দিকটি নিয়ে আলোচনা করেন না।

সিডনির মতে, পর্দায় নগ্নতা বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে নারী অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ড কাজ করে। তার বক্তব্য, পুরুষ অভিনেতারা অন্তরঙ্গ দৃশ্য বা শরীর প্রদর্শন করলে অনেক সময় তা অভিনয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে নগ্নদৃশ্যটিই আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড এমন এক তরুণী, যে ভালোবাসা, সম্পর্ক, নিজের শরীর ও অন্যের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় খুঁজে ফেরে। চরিত্রটির জীবনের সংকট তুলে ধরতে সিরিজে অন্তরঙ্গতা ও নগ্নতাকে গল্প বলার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সিডনি সুইনি ও তার অভিনীত ক্যাসি হাওয়ার্ড যে আলাদা সত্তা, সেই পার্থক্যই পরিবারের সামনে সিরিজটি দেখার অভিজ্ঞতায় নতুন করে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মন্তব্য করুন